একজন জর্জ ফ্লোয়েড ও বিচারবহির্ভূত হত্যা কান্ড !

লাইফস্টাইল

স্টালিন উজ্জ্বল  : যে আমেরিকা প্রত্যেকের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন নিভায়।
আজ তার ঘরেই দাউ দাউ করে জ্বলছে‚ বর্নবাদের অভিশপ্ত আগুন।
আমেরিকার জন্ম হয়ে ছিল ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই‚ জর্জ ওয়াশিংটনের সুযোগ্য নেতৃত্ব ও অন্যান্যদের আত্মত্যাগে ১৩ টি উপনিবেশের গৌরবান্বিত স্বাধীনতা সংগ্রাম ১৭৮৩ সালে চুরান্ত স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তী দুশো বছরের মধ্যেই ক্ষুদ্র সময়ে আশ্চর্যজনক ভাবে বিশ্বের শ্রদ্ধা ও বিরক্তির কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয় সে।

 

পশ্চিমী গনতন্ত্রের প্রবক্তাদের মতানুসারে‚ মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থা হল বিশুদ্ধ গনতন্ত্র pure democracy তার কারন হল মার্কিন গনতন্ত্রের মূল উপজীব্য বিষয় গুলো।
জন কল্যাণ মূলক সরকারের ধারনা‚ প্রতিনিধিত্বর ব্যবস্থা‚ রাজনৈতিক দল ও স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠির অস্তিত্ব‚ গন মাধ্যমের স্বাধীনতা‚ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা‚ আইনের যথাবিহিত পদ্ধতি ও নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করা।

যারা মার্কিন সংবিধান রচনা করে ছিলেন তারা মার্কিন ইতিহাসের সব চেয়ে খ্যাতনাম ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ‚ জর্জ ওয়াশিংটন‚ বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন‚ আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন‚ জেমস ম্যাডিসন প্রমুখ। এই সকল ব্যক্তিবর্গ
মার্কিন সংবিধান প্রনয়নে এমন নৈপুণ্য এবং দক্ষতার পরিচয় রেখে ছিলেন যে‚ বলা হয় মার্কিন ইতিহাসে আর কখন এমন প্রতিভাধর মানুষের একত্রে সমাবেশ ঘটবে না।

আমরা সমালোচনা করি আর যাই করি মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে আজ অব্দি একছত্র অধিপতি। সে যে করেই হোক তার কতৃত্ব বজায় রেখেছে পুর বিশ্ব জুড়ে।এতো যারা সুশৃঙ্খল‚ প্রতিটি পদক্ষেপ যাদের দুশ্চিন্তিত‚ তথ্য প্রযুক্তি ও অর্থে যারা সবার উপরে তাদের ঘরে আগুনটা লাগাল কে ❓ প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। ফিরে যেতে হবে অতীতের অন্ধকারে।

বর্নবাদ‚ দাস প্রথা মার্কিন ইতিহাসের অংশ। অতীতে সাদা চামড়ার উন্নত পর্তুগিজ‚ স্প্যানিশ‚ ব্রিটিশ মার্কিনীরা আফ্রিকার সেনেগাল‚ বেনিন‚ টোগো‚ এ্যাঙ্গোলা‚ নাইজেরিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে দলে দলে কালো মানুষদের ধরে এনে বাজারে বিক্রি করত গরু ছাগলের মত। তাদের মানুষ ভাবা তো দূরের কথা এমন কি চিড়িয়াখানাতেও রাখা হত প্রদর্শন করবার জন্য।

আজ যারা মানবতার কথা বলে‚ । তারাই এই নির্মম অমানুষিক‚ অমানবিক নিষ্ঠুর আচরনের উত্তরসূরী। ইউরোপ আমেরিকাতে অভিজাত এলাকায় গেটে ঝুলানো থাকত কুকুর আর কৃষ্ণাঙ্গদের প্রবেশ নিষেধ। বাসে‚ ট্রামে শেতাঙ্গদের দেখলেই কালোদের উঠে দাড়াতে হত। বৈষম্য শোষণ উৎপীড়নের সে এক করুন নজির। এই অন্ধকারে মার্কিন সংবিধান উদারতা মুক্তির আলো দেখিয়ে ছিল।

দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হল ১৮০৮ সালে। কিন্তু কাগজে কলমে হলেও কার কার মন থেকে কালোদের প্রতি ঘৃনা বৈষম্য চলে যায় নি। কালো মানেই অপরাধ‚ দারিদ্র্য ক্ষুধা‚ নিরক্ষরতা। আর তাই আজও উন্নত সভ্যতায় বর্নবাদ বৈষম্য উকি মারে।
আর সেটাই হয়েছে জর্জ ফ্লোয়েড নামক এক কৃষ্ণাঙ্গর সাথে। সে কোন এক দোকানে ২০ ডলারের জাল নোট দেয়াতে‚ শেতাঙ্গ পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। হাত কড়া পড়া অবস্থায় এক শেতাঙ্গ পুলিশ তার পা দিয়ে ফ্লোয়েড কে পিশে মারে।

অপরাধীর শাস্তি হবে প্রচলিত আইনে তাই বলে তাকে হত্যা করবার অধিকার তো পুলিশ কে দেয়া হয়নি মার্কিন সংবিধান। এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ভিডিও ভাইরাল হওয়াতে জ্বলে উঠেছে গোটা মার্কিন মুল্লুক। জেগে উঠেছে মার্কিন জনতা। তারা করনার ভয় কে তুচ্ছ করে জর্জ ফ্লোয়েডের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদের রাস্তায় নেমে এসেছে।  আন্দোলন অত্যান্ত সঠিক নৈতিক।
কিন্তু কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ এই আন্দোলন কে ব্যবহার করে শুরু করে দিয়েছে লুটতরাজ। যেটা কোন ভাবেই কাম্য না।
অধিকাংশ মিছিলে কৃষ্ণাঙ্গদের থেকে সাদা চামড়ার মানুষের উপস্থিত বেশি। তারা চায় না বর্নবাদের বর্বরোচিত অবিচার চলুক দীর্ঘকাল। তারা চায় সমতা ফ্লোয়েড হত্যার বিচার‚ কে কালো কে সাদা সেটা তারা বুঝতে চায় না। তারা চায় আমরা মার্কিন‚ আমরা মানুষ এটাই প্রমান করতে।

করনার এই মুমূর্ষু অবস্থায়ও মার্কিন জনগণ অন্যায় কে মেনে নিতে নারাজ। ওদের প্রতিবাদী ভাষা‚ মূল্যবোধ থেকে আমাদের এশিয়ার প্রতিটি দেশের প্রতিটি জনগনের‚ পুলিশ প্রশাসনের শেখার আছে‚ সংযত হবার ইঙ্গিতও আছে। জনগণের শেখার আছে অন্যায় হলে বিচার না পেলে তার প্রতিকারের দাবিতে পথে নেমে আসা। আগ্রাসনের শিকার যেই হোক তার জাতি ধর্ম পরিচয় মুখ্য না‚ মুখ্য হল সে মানুষ সে রাষ্ট্রের নাগরিক তার প্রতি সমবেদনা সমর্থন মানুষ হিসেবে নাগরিক হিসেবে অন্যদের থাকা চাই।

আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যারা দায়িত্বরত তাদের শেখার আছে জানার আছে। পেশাদারিত্ব বোধ উপলব্ধি।আইনের রক্ষক হয়ে চাইলেই কাউ কে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেলে ফেলে দেয়া যায় না।ধরে নিয়ে বিচার বহির্ভূত হত্যা অমানবিক পৈশাচিক।

 

SHARE

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *