বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কখনো কোচিং করেননি রুহুল আমিন ::

লাইফস্টাইল

দৈনিক ত্যের বাণী :বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কখনো কোচিং করেননি রুহুল আমিন  কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল। ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, প্রত্যাশা ছাপিয়ে তিনিই প্রথম।

 

রুহুল আমিন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের দয়াকান্দা গ্রামের ছেলে। বাবা ৩০ বছর ধরে তাঁতে বোনা কাপড়ের ব্যবসা করতেন। বছর খানেক আগে সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এখন তিনি নিজের কৃষিজমি দেখাশোনা করেন। মা রেহেনা আক্তার গৃহিণী।

 

মুঠোফোনে কথা হয় রুহুল আমিনের সঙ্গে। বিসিএসের প্রস্তুতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দুটি চাকরির কথা ভেবেছি। একটি বিসিএস, আরেকটি ব্যাংক। এর বাইরে চাকরির পরীক্ষা দিইনি।’ তবে প্রচলিত নিয়মে বিসিএসের পড়া পড়েননি রুহুল আমিন। বললেন, ‘সবাইকে দেখেছি বিসিএসের জন্য কোচিং করতে। নিয়মিত নোট করে প্রস্তুতি নিতে। আমি এগুলোর কোনোটিই করিনি।’

 

৩৮তম বিসিএসই তাঁর প্রথম বিসিএস। এই বিসিএস দেওয়ার আগে তিনি বিগত ১০ বছরের প্রশ্ন দেখে পরীক্ষা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। ছাত্র অবস্থায় টিউশনি করতেন। এই টিউশনি তাঁর সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে। তাঁর ভাষায়, ‘বিসিএসের সিলেবাস দেখে মনে হলো যেসব বিষয়ে আমি টিউশনি করাতাম, সেসব বিষয়ের অনেক কিছুই আছে বিসিএসের সিলেবাসে। এসব পড়তে অনেকে কোচিংয়ে যায়। কিন্তু আমি নিজেই এগুলো টিউশনিতে ছাত্রদের পড়াতাম।’

 

রুহুল আমিন জানালেন, কয়েকজন সহপাঠীকে দেখেছেন বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে ঘাবড়ে যেতে। তাঁর বেলায় এমনটা হয়নি। তাঁর সব সময় মনে হতো ঠিকমতো পরীক্ষা দিলে বিসিএসে প্রত্যাশিত ফল পাবেন তিনি।

 

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন রুহুল আমিন। বিগত সালের লিখিত পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সাধারণ বিজ্ঞান আর ইংরেজিতে বেশির ভাগ প্রার্থী ভালো করতে পারেন না। কিন্তু এ দুই বিষয়ে ভালো দখল ছিল তাঁর। মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ভাইভা বোর্ডে প্রথম দুটি প্রশ্নের উত্তর ভালো দেওয়ায় বোর্ডের সদস্যরা বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন। পুরো পর্বটি খুব স্বাচ্ছন্দ্যে কেটে গেছে। তাঁর মনে হয়েছে, তিনি ভালো ফলই পাবেন।

 

বিসিএসের ক্যাডার পছন্দক্রম হিসেবে তাঁর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ ছিল যথাক্রমে প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র। আত্মবিশ্বাস ছিল, যেকোনো একটি ক্যাডার পাবেন। পেয়েছেন প্রথমটিই।

 

অনলাইন ডেস্ক

SHARE

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *